ডিগ্রি মানুষকে সুযোগ তৈরি করে দেয়, কিন্তু শিক্ষা মানুষকে দায়িত্বশীল করে তোলে—এমন মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার (সিআর আবরার)।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম নগরের টাইগারপাসে একটি কনভেনশন সেন্টারে চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, পড়াশোনা যদি কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেই শিক্ষা অব্যবহৃতই থেকে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে কী অর্জন করা হলো, সেটার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো—এই অর্জন দিয়ে সমাজের জন্য কী করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন জীবনে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এসব সিদ্ধান্ত যেন যুক্তিযুক্ত, ন্যায্য ও মানবিক হয়—সেজন্য সময় নিয়ে ভাবতে হবে। এমনকি একজন সাধারণ কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা জরুরি।
শুধু প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অধিকার ও সুবিচার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সিআর আবরার আরও বলেন, দেশ বর্তমানে একটি বড় রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের ঠিক করতে হবে—আমরা কি পুরোনো সেই ব্যবস্থায় ফিরে যাব, যা আমাদের সংকট ও বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে, নাকি ন্যায়ভিত্তিক নতুন একটি ব্যবস্থার পথে এগোবো। ব্যক্তি স্বার্থের বাইরে গিয়ে বৃহত্তর সামাজিক দায়িত্ব পালনের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, ন্যায়নীতি, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো অপরিহার্য। ব্যক্তি অর্জন দিয়ে জীবনের সাফল্য পরিমাপ করা যায় না; বরং সমাজের জন্য আমরা কী দিচ্ছি—সেটাই প্রকৃত মাপকাঠি।
সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ও পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী সভাপতি ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
তিনি বলেন, স্নাতক ডিগ্রি কোনো পুরস্কার নয়; এটি একটি প্রতিশ্রুতি। এই ডিগ্রি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়, তবে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ছাড়া সেই সম্ভাবনার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
বর্তমান বিশ্ব হার্ড স্কিল ও সফট স্কিলের সমন্বয়ে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু শিক্ষিত হলেই চলবে না, দক্ষ মানুষ হিসেবেও নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। দক্ষতার চাহিদা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, তাই নিজের যোগ্যতা ও আগ্রহ চিহ্নিত করে প্রস্তুত থাকাই ভবিষ্যৎ সাফল্যের চাবিকাঠি।
অনিশ্চয়তাকে ভয় না পেয়ে গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জীবনে সক্রিয় ও উদ্যোগী হওয়াই সবচেয়ে বড় শিক্ষা। প্রত্যেককে ঠিক করতে হবে—তিনি নিজের জীবনের চালক হবেন, নাকি কেবল যাত্রী।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীর মোহাম্মদ নুরুল আবসার। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিআইইউ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান লুৎফে এম আইয়ুব, প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্ট ইএসটিসিডির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাকারিয়া খান এবং ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।

