ইসরায়েলি–মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির বর্তমান নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার (১ মার্চ) মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনায় বসতে চায় এবং তিনিও সে প্রস্তাবে রাজি আছেন। তিনি বলেন, “তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায়, আর আমিও রাজি হয়েছি। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব। তাদের আরও আগেই এটা করা উচিত ছিল।”
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি–মার্কিন বাহিনীর সমন্বিত হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানসহ অন্তত ৩০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
এর জবাবে ইরান পাল্টা হামলা শুরু করেছে। তারা ইসরায়েলের শহর তেল আবিব-এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, যৌথ হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত ২০১ জন নিহত ও সাত শতাধিক আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় ইসরায়েলে ৯ জন নিহত এবং ১২১ জন আহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে চালানো পাল্টা আঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৩ জন, কুয়েতে ১ জন এবং ইরানে ২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আমিরাতে নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সংলাপ অঞ্চলজুড়ে চলমান সংঘাত প্রশমনে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

