রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঈদবাজারে নকল বিদেশি পোশাক, মেয়াদোত্তীর্ণ কসমেটিকস—চট্টগ্রামে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদ সামনে রেখে বাজারে বেড়েছে কেনাকাটা। এই সুযোগে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শোরুমে দেশি পোশাককে বিদেশি বলে বিক্রি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও অননুমোদিত কসমেটিকস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের দায়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

- Advertisement -

বুধবার (১১ মার্চ) নগরের সানমার ওশান সিটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘অ্যাঞ্জেলিক’ নামের একটি দোকানকে বাংলাদেশি কাপড় বিদেশি বলে বিক্রি এবং আমদানির কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ চোখের লেন্স ও অননুমোদিত প্রসাধনী বিক্রির দায়ে ‘রেড আর্থ’কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানের বিষয়ে অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ঈদবাজারে পাকিস্তানি পোশাকের চাহিদা বেশি থাকায় কিছু দোকান দেশি পোশাককে পাকিস্তানি ব্র্যান্ড বলে বিক্রি করছে। কিন্তু এসব পোশাকের কোনো আমদানি নথি বা ভাউচার দেখাতে পারেননি বিক্রেতারা।

তিনি আরও বলেন, অনেক দোকানে ‘মেড ইন পাকিস্তান’ লেখা না থাকলেও বিদেশি পোশাক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। আবার কিছু পোশাক ইউএই থেকে আনা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও তার কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি। প্রকৃতপক্ষে এসব পোশাকের কোনোটি আমদানি করা নয়।

কসমেটিকসের বাজারেও অনিয়মের চিত্র পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। অনেক দোকানে ২০২৩ সাল থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি হচ্ছে। কিছু দামী পারফিউমও পাওয়া গেছে, যেগুলো আসল নাকি নকল—তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে মানসম্মত পোশাক তৈরি হয় এবং সেগুলো ইউরোপ-আমেরিকার বাজারেও রপ্তানি হচ্ছে। তাই দেশি পণ্যে বিদেশি ট্যাগ লাগিয়ে বিক্রি করা বন্ধ করতে হবে। কেউ প্রতারণার শিকার হলে অধিদপ্তরকে জানাতে অনুরোধ জানান তিনি।

এর আগে গত ৭ মার্চ টেরিবাজার এলাকায় ‘রাজস্থান’ নামের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশি পণ্যকে ভারতীয় পণ্য বলে বিক্রির দায়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া ৯ মার্চ সিঙ্গাপুর ব্যাংকক মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে পোশাকে ডাবল স্টিকার লাগিয়ে দাম বাড়ানোর কারণে ‘জেন্টেল পার্ক’কে ৫০ হাজার টাকা এবং অন্যের উৎপাদিত পোশাক নিজেদের বলে বিক্রির দায়ে ‘শৈল্পিক’কে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই অভিযানে নিষিদ্ধ ও অননুমোদিত প্রসাধনী বিক্রির দায়ে ‘ইন্টার লিংক কসমেটিক’ ও ‘আরবি কালেকশন’কে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও