র্যাব থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নতুন আইনের আওতায় একটি নতুন এলিট ফোর্স গঠনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে সরকার।
তবে বাহিনীটির নাম ‘র্যাব’ থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।
সোমবার র্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি, যার অধীনে এলিট ফোর্স হিসেবে একটি বাহিনী থাকবে। র্যাবের নাম পরিবর্তন করা হবে কি না, নাকি নতুন কোনো বাহিনী গঠন করা হবে—তা এখনো চিন্তাভাবনার পর্যায়ে রয়েছে।”
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ও পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের আইনের আওতায় র্যাব পরিচালিত হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অস্থায়ী ভিত্তিতে চলেছে। তিনি বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠানের এভাবে পরিচালিত হওয়া ঠিক ছিল না। নতুন আইনে বাহিনীর ক্ষমতা, দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে।”
র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কয়েকজন কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডের দায় পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তায় না। নতুন কাঠামোয় এলিট ফোর্স গঠন করা গেলে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট শাসনামলে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবিসহ রাষ্ট্রের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কিছু কর্মকর্তার দায় পুরো বাহিনী নিতে পারে না।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বাহিনী ব্যবহার করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সেই সময়ের কর্মকাণ্ডের কারণেই এসেছে।”
র্যাবকে ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সকালের শুরুই দিনের ইঙ্গিত দেয়। তিন মাসে কি পুলিশ বা র্যাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে?”
২০০৪ সালের ২৬ মার্চ বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে জঙ্গিবাদ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব) গঠন করা হয়।
পরবর্তীতে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ ওঠে বাহিনীটির বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একাধিকবার র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানায়।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব ও এর কয়েকজন সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
সবশেষ জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় তাদের প্রতিবেদনে র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল।
এর আগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় র্যাবের নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)’ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

