১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষ কখনোই জামায়াতকে ক্ষমতায় আনবে না, কারণ দলটি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিল।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জে পরিত্যক্ত বিমানবন্দর চত্বরে জেলা বিএনপি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “ভোটের আগে তারা খুব ঢাকঢোল পিটিয়েছে যে ক্ষমতায় চলে এসেছে। কিন্তু এ দেশের মানুষ জামায়াতকে ক্ষমতায় আনবে না। কারণ তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল এবং মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি ঘটিয়েছিল।”
অনুষ্ঠানে পৌঁছে এলজিআরডি মন্ত্রী পরিত্যক্ত বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বিএনপির বিরুদ্ধে সংস্কারবিরোধী প্রচারণার জবাব দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “যারা বলেন বিএনপি সংস্কার করতে চায় না, তারা মিথ্যা বলেন। সংস্কার আমরাই শুরু করেছিলাম। বেগম খালেদা জিয়া ২০১৬ সালে প্রথম ‘ভিশন ২০৩০’ দিয়েছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে বিএনপিই ৩১ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। জনগণের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “মিথ্যাচার করলে জনগণ ক্ষমা করবে না।”
তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনের আগেই ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “তারেক রহমান বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন— ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। নির্বাচনের তিন মাসের মধ্যেই সে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।”
তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং দেশের আমূল পরিবর্তনে কাজ চলছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমানের নিয়ত ভালো। আমরা মানুষের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিতে চাই। ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে যেহেতু ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাই দ্রুত কাজ শুরু হবে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলীসহ স্থানীয় নেতারা।

