ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অগ্রসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পারিবারিক সূত্র ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর টানা আট মাসের বেশি সময় চিকিৎসাধীন ছিলেন।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ছাত্ররাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ১৯৬৭-৬৯ সালে ডাকসুর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রনেতাদের অন্যতম ছিলেন তিনি। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমান-কে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করার ঘোষণা দেন তোফায়েল আহমেদ।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ‘মুজিব বাহিনী’র অন্যতম আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর সংবিধান প্রণয়নসহ রাষ্ট্রগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং পরে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও পরে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

