রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

গরিব থেকে তরুণ—সবার কথা ভেবেই বাজেট: আইনমন্ত্রী

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী উল্লেখ করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এ বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের পথ সুগম করবে।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দশম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, একসময় বাজেট উপস্থাপনের পর ‘গরিব মারার বাজেট’ বা ‘বড়লোকের বাজেট’ বলে সমালোচনা করা হলেও এবারের বাজেটকে ঘিরে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তার দাবি, গরিব, মধ্যবিত্ত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ব্যবসায়ী এবং কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি কোনো একদিনের চিন্তার ফল নয়; বরং দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন।

বাজেটকে ‘স্বপ্নবিলাসী’ ও ‘উচ্চাভিলাষী’ বলে সমালোচনার জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, যে জাতি স্বপ্ন দেখতে পারে না, সে জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। উচ্চাভিলাষ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বড় লক্ষ্য নিয়েই এগোতে হবে।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হয়েছে। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচির পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডের আওতা বাড়িয়ে প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষা খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থপাচার, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল। এসব পরিস্থিতির মধ্যেও একটি বাস্তবমুখী ও উন্নয়নবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাল ও নদী পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর-সুবিধা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার লুটপাট ও অর্থপাচারনির্ভর অর্থনীতির অবসান ঘটিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। প্রস্তাবিত বাজেট সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং দেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার রূপরেখা বহন করছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও