কিডনিতে পাথর হওয়া বর্তমানে একটি সাধারণ মূত্রতন্ত্রের সমস্যা। নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে এ রোগের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই একবার চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের পরও বারবার কিডনিতে পাথর তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ এবং সঠিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে এই ঝুঁকি থেকেই যায়।
কেন বারবার কিডনিতে পাথর হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপর্যাপ্ত পানি পান, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, বিপাকীয় (মেটাবলিক) সমস্যা এবং পারিবারিক ইতিহাস কিডনিতে পাথর হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
এ ছাড়া অনেকের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই ক্যালসিয়াম, অক্সালেট বা ইউরিক অ্যাসিডের মতো পাথর সৃষ্টিকারী উপাদান বেশি পরিমাণে নিঃসৃত হয়। ফলে তাদের ক্ষেত্রে পুনরায় কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বেশি থাকে।
পাথর অপসারণ করলেই কি ঝুঁকি শেষ?
চিকিৎসকদের মতে, অনেকেই মনে করেন পাথর অপসারণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয়। প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন না আনলে নতুন করে পাথর তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অস্ত্রোপচার বা চিকিৎসার মাধ্যমে পাথর অপসারণ নয়, বরং ভবিষ্যতে পাথর প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?
যাদের বারবার কিডনিতে পাথর হয়, উভয় কিডনিতে পাথর রয়েছে, একাধিক বা বড় আকারের পাথর রয়েছে, তাদের রক্ত ও মূত্রের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত। পাশাপাশি একজন ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে পাথর তৈরির মূল কারণ শনাক্ত করলে ভবিষ্যতের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন। গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক হাইড্রেশন কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত লবণ খাওয়া এড়িয়ে চলুন। খাবারের স্বাদ বাড়াতে ভেষজ ও প্রাকৃতিক মসলা ব্যবহার করতে পারেন। সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করুন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্যাশ (DASH) ডায়েট অনুসরণ করলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
চিকিৎসকদের মতে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে কিডনিতে বারবার পাথর হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

