মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

জামায়াত নিষিদ্ধ হলে শূন্যস্থান পূরণ করবে কে?—সংসদে আজহার

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:

সরকারি দলকে উদ্দেশ করে একদলীয় শাসনের আশঙ্কার কথা জানালেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ধরলাম, আমরা নিষিদ্ধ হয়ে গেলাম। এই শূন্যস্থান পূরণ করবে কে? আপনারা কি একাই দেশ চালাবেন? আপনারা কি একদলীয় শাসন কায়েম করবেন?”

- Advertisement -

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ২২ জুন বিএনপির সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। সেই বক্তব্যেরই জবাব দেন আজহারুল ইসলাম।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, সরকার আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে কি না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চার মাসেও নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে বহাল রাখার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বক্তব্যের শুরুতে জামায়াতের প্রয়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা ও মীর কাশেম আলীকে স্মরণ করেন তিনি। মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এসব নেতাকে ‘বিচারিক হত্যার’ শিকার দাবি করে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘অতি উচ্চাভিলাষী’ ও ‘ঋণনির্ভর’ উল্লেখ করে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, রাজস্ব আহরণে অনিশ্চয়তা, ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের সংকোচন বাজেট বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলতে পারে। মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক চাপ ও বড় রাজস্ব ঘাটতি অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, পরিচালন ব্যয়ের চাপ উদ্বেগজনক। বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, যার মধ্যে শুধু সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তার মতে, এ পরিমাণ সুদ সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে।

সুদভিত্তিক অর্থনীতির পরিবর্তে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ধীরে ধীরে সুদমুক্ত অর্থব্যবস্থার দিকে এগোনো উচিত।

এ লক্ষ্যে শরিয়াহভিত্তিক রিটেইল সুকুক চালুর মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

তবে তিনি স্বীকার করেন, এক বা দুই বছরের মধ্যে দেশকে সুদমুক্ত করা সম্ভব নয়। কিন্তু পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে ধাপে ধাপে সুদমুক্ত আর্থিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও