বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

‘পাহাড় কেটে ঝুঁকি সৃষ্টি করলে রেহাই নয়’—মেয়র শাহাদাত

সিনিয়র রিপোর্টার:

চট্টগ্রামে টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে পাহাড়ধসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে ঝুঁকি সৃষ্টিকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। একই সঙ্গে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে নগরের পাঁচলাইশ থানার চশমা হিল এলাকায় পাহাড়ধসে নিহত শিশুর বাড়ি পরিদর্শন এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, “শুধু আইন করলেই হবে না, আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে যারা পাহাড় কেটেছে এবং যারা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব নয়।”

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, পাহাড়টি স্বাভাবিক অবস্থায় না রেখে কেটে প্রায় খাড়া করে ফেলা হয়েছে। ফলে পুরো এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। টানা বৃষ্টিতে যেকোনো সময় আবারও পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

ডা. শাহাদাত জানান, জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আরবান হেলথ সেন্টারগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সেখানে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা বারবার অনুরোধ করছি, প্রয়োজন হলে চাপও প্রয়োগ করছি যাতে কেউ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে না থাকেন। কেউ স্বেচ্ছায় না গেলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মেয়র আরও বলেন, গত ৪৫ বছরের ইতিহাসে চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার এবং টানা তিন দিনে প্রায় ৬৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা নজিরবিহীন। এ পরিস্থিতিকে তিনি মানবিক দুর্যোগ উল্লেখ করে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সবাইকে মানুষের জীবন রক্ষায় একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি জানান, পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকার পাশাপাশি পানিবন্দি এলাকাগুলোতেও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে রান্না করা খাবারসহ জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নিহত শিশুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গভীর শোক প্রকাশ করেন মেয়র এবং তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও