বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধবিরোধী সমাবেশ, অপরাধীদের কঠোর হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, কিশোর গ্যাংসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

- Advertisement -

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রাম রেঞ্জে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের কোনো স্থান নেই, ভবিষ্যতেও থাকবে না।” জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী যেকোনো অপতৎপরতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি আরও বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং দমনে বাংলাদেশ পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম রেঞ্জ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

এ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে প্রতিটি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে মাদকবিরোধী সমাবেশ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও অপরাধচক্রের গডফাদারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইনের হাত থেকে কোনো অপরাধীই রেহাই পাবে না এবং মাদকের বিস্তারের নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়া হবে।

সভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম। তিনি বলেন, জনসম্পৃক্ততাভিত্তিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর করা সম্ভব।

সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি নিরাপদ, মাদকমুক্ত ও সন্ত্রাসবিরোধী সমাজ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পুলিশ সুপার উপস্থিত জনসাধারণকে নির্ভয়ে ও নিঃসংকোচে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং এবং অন্যান্য অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে জানাতে আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জনগণের তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত, কার্যকর ও আইনসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির ইতিবাচক ফলাফল অচিরেই দৃশ্যমান হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভা শেষে স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও