মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামিন পেলেন আলোচিত ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী তামান্না

স্টাফ রিপোর্টার

চারটি হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন চট্টগ্রামের আলোচিত ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ এবং তার স্ত্রী শারমিন তামান্না। গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে হাইকোর্ট থেকে এ জামিন আদেশ দেওয়া হলেও সম্প্রতি আদেশগুলো চট্টগ্রামের আদালতে পৌঁছালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

- Advertisement -

বর্তমানে সাজ্জাদ রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং তার স্ত্রী তামান্না ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন। গত মাসে তাদের চট্টগ্রাম কারাগার থেকে ওই দুই কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, চারটি মামলায় সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা থাকায় আপাতত তারা কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, এসব জামিন আদেশ স্থগিতের বিষয়ে হাইকোর্টের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে এবং বাকি মামলাগুলোতে যাতে তারা জামিন না পান, সে বিষয়ে সতর্ক থাকবে।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ১০টি হত্যাসহ মোট ১৯টি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রী তামান্নার বিরুদ্ধেও একাধিক হত্যাসহ আটটি মামলা বিচারাধীন।

গত ১৫ মার্চ ঢাকার একটি শপিং মল থেকে সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বান্ডিল বান্ডিল টাকা ছুড়ে’ জামিনে মুক্তির কথা উল্লেখ করে তামান্নার একটি বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালত সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট চান্দগাঁও থানার দোকান কর্মচারী শহিদুল ইসলাম হত্যা মামলায় ১৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট সাজ্জাদ ও তামান্নাকে জামিন দেন। একই দিন পাঁচলাইশ থানার ওয়াসিম আকরাম হত্যা মামলায় এ দম্পতিসহ তিনজনকে জামিন দেওয়া হয়।

পরে ২২ সেপ্টেম্বর পাঁচলাইশ থানার দোকান কর্মচারী মো. ফারুক হত্যা মামলা এবং চান্দগাঁও থানার আফতাব উদ্দিন হত্যা মামলাতেও একই বেঞ্চ তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

আফতাব হত্যা মামলা ছাড়া বাকি তিনটি মামলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলন চলাকালে গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা। এসব মামলায় রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের জামিন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, সাজ্জাদ কারাগারে থাকলেও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর তৎপরতা বন্ধ হয়নি। বাহিনীর অন্তত অর্ধশত সদস্য হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সাজ্জাদের অনুপস্থিতিতে মোহাম্মদ রায়হান, মোবারক হোসেন ইমন, বোরহান উদ্দিন কাদের ও নাজিম বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর ধারাবাহিকতায় গত ৫ নভেম্বর বিএনপির এক মনোনীত প্রার্থীর গণসংযোগ চলাকালে একটি গলিতে গুলির ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলে সরোয়ার হোসেন বাবলা নামের এক সন্ত্রাসী নিহত হন। তার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা রয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ গুলির ঘটনা ঘটে। তবে ভিড়ের মধ্যে গুলি চালানো শুটারকে এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও