রমজানের মূল ইবাদত রোজা রাখা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী সহবাস ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকাই রোজার বিধান। পুরো দিন পানাহার থেকে বিরত থাকার প্রস্তুতি হিসেবে মুসলিমরা রাতের শেষ প্রহরে যে খাবার গ্রহণ করেন, তাকে সেহরি বলা হয়।
‘সেহরি’ শব্দের অর্থ ভোরের খাবার। রোজা রাখার উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময়ে যে পানাহার করা হয়, ইসলামের পরিভাষায় সেটিই সেহরি।
রোজা রাখার নিয়তে সেহরি খাওয়া সুন্নত এবং এতে রয়েছে বিশেষ বরকত। হাদিসে সেহরির গুরুত্ব সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বর্ণনা এসেছে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত আছে।’ — সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯২৩
আরেক হাদিসে তিনি বলেন, ‘আহলে কিতাব তথা ইহুদি-খ্রিস্টান আর মুসলমানদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া। তারা সেহরি খায় না, আর আমরা সেহরি খাই।’ — সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৪৩; জামি আত-তিরমিজি, হাদিস: ৬৪২
বাংলাদেশে রমজান মাসে মসজিদের মাইকে সেহরির সময় সম্পর্কে ঘোষণা দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। সাধারণত শেষ সময়ের এক-দেড় ঘণ্টা আগে থেকে মুসল্লিদের জাগাতে মাইকিং করা হয়। নির্ধারিত সময় শেষ হলে বলা হয়, ‘সেহরির সময় শেষ’। এরপর ফজরের আজান দেওয়া হয়।
মুয়াজ্জিনের মুখে ‘সেহরির সময় শেষ’ শোনার পর আর খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা যাবে না। এরপর কিছু খেলে রোজা ভেঙে যাবে।
তবে কিছু মসজিদে সতর্কতামূলকভাবে নির্ধারিত সময়ের দুই-তিন মিনিট আগে ‘সেহরির সময় শেষ’ বলা হয়। সে ক্ষেত্রে আজান শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত খাওয়া বৈধ থাকতে পারে। কিন্তু আজান শুরু হয়ে গেলে আর কোনোভাবেই পানাহার করা যাবে না। তাই সময় সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
সেহরির শেষ সময়কে বলা হয় ‘সুবহে সাদিক’। রাতের শেষ ভাগে পূর্ব দিগন্তে অনুভূমিকভাবে সাদা আলোর যে রেখা দেখা যায়, সেটিই সুবহে সাদিক। এ সময় থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং সেহরির সময় শেষ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ না রাতের কালো রেখা থেকে ভোরের সাদা রেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত হয়।’ — কুরআনুল কারিম, সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৭
অতএব, সুবহে সাদিক শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রোজা শুরু হয়ে যায়। এ সময় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকাই রোজার বিধান।

