রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ লাইলাতুল কদরের রাত

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক

পবিত্র রমজান মাসে শবে কদর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ একটি রাত। ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাত হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। শবে কদর ফারসি শব্দ—‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘কদর’ অর্থ সম্মান, মর্যাদা। আরবিতে একে বলা হয় লাইলাতুল কদর।

- Advertisement -

ইসলামের দৃষ্টিকোণে এই রাতের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এ রাতেই মানবজাতির পথনির্দেশক মহাগ্রন্থ পবিত্র কোরআন নাজিল হয়। কোরআনে এই রাতের গুরুত্ব বর্ণনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ সুরাও নাজিল হয়েছে, যা সূরা কদর নামে পরিচিত।

এই পবিত্র রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। অনেকেই কবর জিয়ারত করেন এবং নিজেদের গুনাহের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর তালাশ করতে। তাই ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমজানের রাতগুলোতে বেশি বেশি ইবাদত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

লাইলাতুল কদরের রাতে বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট নামাজের পদ্ধতি নেই। দুই রাকাত করে যত বেশি সম্ভব নফল নামাজ আদায় করা উত্তম। পাশাপাশি বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া, ইস্তেগফার ও তওবা করা উচিত।

হাদিসে বর্ণিত একটি বিশেষ দোয়া এ রাতে বেশি পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি নবী করিম (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন—যদি লাইলাতুল কদর পেয়ে যাই তাহলে কী দোয়া পড়ব? তখন তিনি বলেন—

“اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي”

অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল ও মহানুভব। আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫১৩)

ইসলামী স্কলাররা বলেন, রমজানের শেষ দশকের প্রতিটি বেজোড় রাতেই আন্তরিকভাবে ইবাদত করলে লাইলাতুল কদরের ফজিলত লাভের সম্ভাবনা থাকে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও