জুমার নামাজ শেষে নগরের জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের প্রাঙ্গণে মানুষের ভিড়। কেউ ফিরছেন বাসায়, কেউ দাঁড়িয়ে আছেন মসজিদের আঙিনায়। কেউ দেখছেন ঈদের জামাতের প্যান্ডেল। ঠিক তখনই শুরু হয় এক ভিন্ন আয়োজন—অসহায়, দরিদ্র ও ভাসমান মানুষের হাতে খাদ্য সহায়তা তুলে দেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা নিজেই।
পবিত্র ঈদুল ফিতর যেন সবার জন্য আনন্দ বয়ে আনে—এই লক্ষ্য নিয়ে শুক্রবার (১৩ মার্চ) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুস্থ ও ভাসমান মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়। জুমার নামাজ শেষে জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২৫০ জন অসহায়, ভাসমান মানুষ ও ভিক্ষুকের হাতে খাদ্য সহায়তার প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়।
প্রতিটি প্যাকেটে ছিল ১০ কেজি চাল, ১ কেজি দেশি মসুর ডাল, ১ কেজি আয়োডিনযুক্ত লবণ, ১ কেজি চিনি ও ১ লিটার ভোজ্য তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।
মসজিদের খাদেম আবুল কালাম আজাদ প্রায় ৩০ বছর ধরে এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। এত দীর্ঘ সময়েও এমন দৃশ্য খুব কমই দেখেছেন তিনি। তার ভাষায়, জেলা প্রশাসক শুধু উপস্থিতই ছিলেন না, নিজের হাতে প্রতিটি ভিক্ষুকের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দিয়েছেন। একজন জেলা প্রশাসক নিজে এসে সমাজের অবহেলিত মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে সহায়তা দিচ্ছেন—এটা সত্যিই বিরল।
মসজিদ প্রাঙ্গণে কাজ করা শফিকুল ইসলাম, যিনি চট্টগ্রাম সিটি কলেজে মাস্টার্সে পড়ছেন, তিনিও পুরো দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, এমন ভালো মনের ডিসি আগে দেখিনি।
মসজিদের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ওসমান গনিও জেলা প্রশাসকের প্রশংসা করে বলেন, ডিসি স্যার তাকে একটি খাদ্য প্যাকেট দিয়েছেন এবং পুরো সময় হাসিমুখে মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সমাজে বসবাস করলে একা ভালো থাকা যায় না; সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে হবে।
তিনি বলেন, যারা ভালো অবস্থানে আছেন, তাদের প্রতি আহ্বান—অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। কারণ তারাও এই সমাজেরই অংশ। উৎসব একা করা যায় না; সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করেই উৎসবের আনন্দ পূর্ণতা পায়।
তিনি আরও বলেন, কোনো অসহায় মানুষ যদি উৎসবের দিনে খেতে না পারে বা তার ঘরে খাবার না থাকে, সেটি খুবই কষ্টের বিষয়। তাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানান, সরকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য স্থায়ী সহায়তার ব্যবস্থাও নিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে বিশেষ করে নারীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন বাংলাদেশে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যেখানে কেউ অসহায় হয়ে পড়ে থাকবে না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ছাইফুল্লাহ মজুমদারসহ অন্যরা।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

