পুলিশ প্রশাসন কোনো রাজনৈতিক দলের নয়—এ কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আইন ও সংবিধান অনুযায়ীই পুলিশ পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন।
রোববার (১০ মে) রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তন-এ ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত কল্যাণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পুলিশ শুধু আইন প্রয়োগকারী বাহিনী নয়, জনগণের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রথম ভরসাস্থল।” তার মতে, জনগণের কাছে পুলিশ যদি বিশ্বাস ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, সেটিই হবে পুলিশের প্রকৃত সাফল্য।
থানাগুলোকে আরও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের তদবির ছাড়াই থানায় গিয়ে নিরাপদে অভিযোগ জানাতে ও প্রতিকার পেতে পারেন, সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তারা দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছেন। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, পুলিশের পক্ষে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছিল। এখন সময় এসেছে জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হতে হবে আইনসম্মত ও মানবিক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিপদে না পড়লে মানুষ থানায় যায় না। থানায় গিয়ে যেন মানুষের দুর্ভোগ না বাড়ে, বরং আস্থা তৈরি হয়—এটি নিশ্চিত করতে হবে।”
আধুনিক অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, সাইবার ক্রাইম, অনলাইন জুয়া, আর্থিক জালিয়াতি, কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশকে আরও দক্ষ ও প্রযুক্তিসম্পন্ন হতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডাটা বিশ্লেষণ, ডিজিটাল ফরেনসিক ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীকে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মানবাধিকার রক্ষার বিষয়েও কঠোর অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম, অপহরণ বা বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, বদলি, পদোন্নতি ও নিয়োগে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

