চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিণত হয়েছে ভয়াবহ দূষণের হটস্পটে। অবকাঠামোগত নির্মাণকাজের ধুলো-বালি আর কলকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ার সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রান্তিক কোম্পানির ডকইয়ার্ডের স্যান্ড ব্লাস্টিং। এতে পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে।
মুইন্যার গোষ্ঠী এলাকায় অবস্থিত ডকইয়ার্ডটি জাহাজের রং-জং তুলতে স্যান্ড ব্লাস্টিং মেশিন ব্যবহার করছে। ফলে বাতাসে বিষাক্ত ধুলো ও কণা ছড়িয়ে পড়ছে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। স্থানীয়রা বলছেন, মাস্ক পরেও সুরক্ষা মিলছে না। প্রতিদিন কেউ না কেউ শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা ও ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন।
গত আগস্টে ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। তাতে উল্লেখ করা হয়, নির্মাণকাজের সময় ভারী ট্রাকচাপায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। এখন নতুন করে স্যান্ড ব্লাস্টিংয়ের কারণে মানুষের জীবন আরও বিপর্যস্ত হচ্ছে।
অভিযোগের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তর কেবল দায়সারা পরিদর্শন করছে। কালো ধোঁয়ায় দিনের বেলায়ও রাতের মতো অন্ধকার নেমে আসে।
চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, “ইউএনও অফিসে একবার বৈঠক হয়েছে, আবারও বৈঠক হবে। আশা করি দ্রুত সমাধান আসবে।”
পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কেমিস্ট জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তাদের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অফিসিয়াল প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা চলছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব কান্তি রুদ্র বলেন, “পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরও কেন তারা চালাচ্ছে, সেটি আমরা খতিয়ে দেখছি।”
চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগ জানতে চাইলে প্রান্তিক ডকইয়ার্ড কোম্পানির এমডি মো. গোলাম সরওয়ার সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর বলেন, “আমি এ বিষয়ে এক মিনিটও কথা বলতে পারব না।” এতটুকুই বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে তারা আদালতে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

