সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘১৯৭১ আমাদের অস্তিত্বের ঠিকানা’—জাতীয় প্রেস ক্লাবে মির্জা ফখরুল

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক

১৯৭১ সালকে ভুলে যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “ওটাই আমাদের জন্মের ঠিকানা—আমাদের অস্তিত্ব, পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্যের প্রতীক।”

- Advertisement -

শনিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অপরিহার্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “একটি শক্তি আছে যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারা এখন ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছে। তারা ২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনকে বড় করে দেখিয়ে ১৯৭১-কে আড়াল করতে চায়। কিন্তু আমরা জানি, এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই কোনো একদিনের নয়—এটা ১৫ বছরের সংগ্রাম।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে ৬ বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে। হাজারো নেতা-কর্মীকে গুম-খুন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কায়েম করা হয়েছিল।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই দেশের সংস্কারের সূচনা করেছিলেন। তিনি একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান চালু করেন, যার অধীনে চারটি সফল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু শেখ হাসিনা সেটি বাতিল করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছেন।”

তিনি বলেন, “বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা প্রথমেই তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিলাম। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল পার্লামেন্ট গঠিত হলে এখন যে অপশক্তিগুলো মাথা তুলছে, তাদের জায়গা থাকত না।”

ফখরুল জানান, দলীয় ঐক্য রক্ষায় বিএনপি দায়িত্বশীল আচরণ করছে। “আমরা সই করা প্রস্তাবের দায়িত্ব নেব, কিন্তু যেটি সই করিনি তার দায়ভার নেব না। প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে। গণভোট ও সংসদ নির্বাচন একসঙ্গেই করতে হবে—এটাই যুক্তিসঙ্গত,” বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা কখনোই নির্বাচনের পেছানোর কথা বলিনি। জনগণকে বিভ্রান্ত করে, প্রতারণা করে গণতন্ত্রকে পিছিয়ে দেওয়া যাবে না। স্বাধীনতার চেতনা রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও