নগরীর চান্দগাঁও বাহির সিগন্যালে পাঁচ বছর আগে নিজ বাসায় ধর্ষনের পর হত্যার শিকার হয় পাঁচ বছরের শিশু নুসরাত জাহান তরী।
দুই বছর তদন্তের পরও চান্দগাঁও থানা পুলিশ এ ঘটনার সুরাহা করতে না পারায় ২০২৩ সালে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (মেট্রো)।
আরো জানুন: ৪ বছরের শিশু ধর্ষন দেখে ফেলায় কুপিয়ে হত্যা
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) তরী হত্যায় একমাত্র আসামি রাসেল হোসেন শেখকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়। রোববার (৭ ডিসেম্বর) আদালতে পাঠানো হলে শিশু তরী হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে রাসেল।
রাসেল হোসেন খুলনার রূপসা থানার চাঁদপুর দক্ষিণ পাড়ার জাকির শেখের ছেলে। সে বাহির সিগন্যাল বেপারিপাড়ার দেওয়ানজি হাট রোডের মোরশেদের কলোনিতে ভাড়া বাসায় থাকতো। ২০২১ সালের ২৭ জুন চান্দগাঁও বাহির সিগন্যাল এলাকায় বাসার খাটের নিচে শিশু তরীর লাশ খুঁজে পান মা ফাতেমা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মর্জিনা আক্তার জানান, তরী হত্যার পর চান্দগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। শুরু থেকে মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই। ঘটনার পরপরই ইমন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। কিন্তু ডিএনএ প্রোফাইল ইমনের সাথে না মেলায় ভিন্ন মোড় নেয় তদন্ত। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় পিবিআইকে। হত্যায় জড়িত সন্দেহে চার-পাঁচজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল র্যাব। ওই সময় রাসেল হোসেন শেখকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। দু’দিন জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদেরকে র্যাব হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, ‘টানা তদন্ত করে আমরা গত শনিবার চান্দগাঁও মোরশেদ কলোনি থেকে রাসেল হোসেন শেখকে গ্রেফতার করি। কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদে তরীকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করে রাসেল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল জানায়, তরীর পাশের বাসায় থাকতো সে। তরীর মা ভোরে গার্মেন্টসে কর্মস্থলে চলে গেলে রাসেল ঘরে ঢুকে পাঁচ বছরের শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে গলা টিপে হত্যা করে। পরে লাশ ঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। কৌশলে ঘটনার বিভিন্ন আলামতও নষ্ট করে। রাসেল জানায়, ঘটনার সময় আশপাশে ঘরের লোকজন ঘুমিয়ে থাকায় কেউ কিছু বুঝতে পারেনি।

