চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন প্রকাশ ছোট সাজ্জাদ এবং তাঁর স্ত্রী শারমিন তামান্নার বিরুদ্ধে দায়ের করা সাতটি হত্যা মামলায় দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন উচ্চ আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হকের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ জামিন স্থগিতের আবেদন করলে আপিল বিভাগ তা মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের তথ্যমতে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ছোট সাজ্জাদ ও তাঁর স্ত্রী সাতটি হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। তবে চলতি সপ্তাহে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে জামিননামা পৌঁছানোর পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এর পরপরই রাষ্ট্রপক্ষ জামিন স্থগিতের উদ্যোগ নেয়।
আদালত সূত্র জানায়, জামিন পাওয়া সাতটি হত্যা মামলার মধ্যে চারটি চান্দগাঁও থানায় এবং তিনটি পাঁচলাইশ থানায় দায়ের করা। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এসব মামলায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশ ও আদালত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ছোট সাজ্জাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ মোট ১৯টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ১০টি হত্যা মামলা। তাঁর স্ত্রী শারমিন তামান্নার বিরুদ্ধেও একাধিক হত্যা মামলাসহ মোট আটটি মামলা বিচারাধীন। বর্তমানে শারমিন তামান্না ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন।
এর আগে গত ১৫ মার্চ রাজধানীর একটি শপিং মল থেকে ছোট সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বান্ডিল বান্ডিল টাকা ছুড়ে’ জামিন নেওয়ার বিষয়ে শারমিন তামান্নার একটি ভিডিও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনীর তৎপরতা থামেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, বাহিনীর অন্তত অর্ধশত সদস্য হত্যা, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। সাজ্জাদের অনুপস্থিতিতে মোহাম্মদ রায়হান, মোবারক হোসেন, বোরহান উদ্দিন ও নাজিম বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম–৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর গণসংযোগ চলাকালে একটি গলিতে গুলির ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহসহ পাঁচজন আহত হন এবং ঘটনাস্থলে সরোয়ার হোসেন বাবলা নামে এক সন্ত্রাসী নিহত হন।

