চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় বন্য হাতির তাণ্ডবে কৃষকদের প্রায় তিন একর জমির সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতের আঁধারে উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের জৈষ্টপুরা গ্রামের পূর্ব বিল ও ব্রাহ্মণ বিলে এ তাণ্ডব চালায় বন্য হাতির একটি দল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই সময় হাতির দলটি কৃষক বিষু চক্রবর্তীর ৩৬ শতক, ঝুন্টু বড়ুয়ার ১ একর, আলাউদ্দিনের ৪০ শতক, কুঞ্জ চৌধুরীর ১৮ শতক, উত্তম চৌধুরীর ১৬ শতক আলুর ক্ষেত সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দেয়। পাশাপাশি বিনোদ চৌধুরীর ৪০ শতক বেগুন ক্ষেত ও ১০ শতক জমির লাউ ক্ষেত দুমড়ে-মুচড়ে দেয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ঝুন্টু বড়ুয়া বলেন, ‘ধার-দেনা করে গত অক্টোবরে এক কানি জমিতে আলু লাগিয়েছিলাম। খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। ফলন ভালো হয়েছিল, আগামী সপ্তাহেই আলু তোলার কথা ছিল। এতে ২০–২২ হাজার টাকা বিক্রি হতো। কিন্তু সব শেষ—বাড়া ভাতে ছাই পড়েছে।’
একই অভিযোগ করেন বিষু চক্রবর্তী, কুঞ্জ চৌধুরী, উত্তম চৌধুরী, আলাউদ্দিন ও বিনোদ চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন কৃষক। তারা বলেন, রাতের মধ্যেই তাদের স্বপ্নের ফসল ধ্বংস হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড়ে খাদ্য সংকটের কারণে বন্য হাতিরা প্রায়ই লোকালয়ে নেমে আসছে। এ সময় তারা ফসলি জমি, বাগান এমনকি বসতবাড়িতেও তাণ্ডব চালাচ্ছে।
কৃষক মো. ইছাক বলেন, ‘হাতির ভয়ে রাতে ঠিকমতো ঘুমানো যায় না। প্রতিদিন রাত হলেই হাতির দল বাগান ও সবজি খেতে ঢুকে পড়ে। যেখানে যায়, পায়ের চাপে সব তছনছ হয়ে যায়।’
বন বিভাগের ভাণ্ডালজুড়ি বিট কর্মকর্তা ঝুন্টু দে বলেন, বন্য হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা নিকটস্থ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে আবেদন করলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, মানুষের বসতিতে হাতির আবাস ও খাদ্যের জায়গা নষ্ট হওয়ায় পাহাড়ে খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে বন্য হাতিরা লোকালয়ে চলে আসছে। হাতির চলাচলে বাধা না দিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, লোকালয়ে হাতি ঢুকলে মশাল জ্বালিয়ে ও চিৎকার করে সেগুলোকে জঙ্গলে ফেরত পাঠাতে হবে। হাতিকে উত্যক্ত না করে নিজস্ব নিরাপদ কৌশলে ফসল রক্ষায় পাহারা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতেও বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, ‘হাতির কারণে কোনো কৃষকের ফসল নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি আমার নজরে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

