দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফও চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি এখন সম্পন্ন হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন। আমি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ টোল-মুক্তভাবে উন্মুক্ত করার এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের অনুমোদন দিচ্ছি। বিশ্বের সব জাহাজ চলাচল শুরু করুক, তেলের প্রবাহ স্বাভাবিক হোক।”
আরেক পোস্টে তিনি দাবি করেন, এই চুক্তি পুরো অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, “অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সফল হননি। আমরা এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছি যা মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।”
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি অর্জিত হয়েছে এবং উভয় পক্ষ সব ধরনের সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তিনি এ উদ্যোগকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেয়নি ইরান। ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার দাবি করা হলেও তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি।
ফলে চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর ও ইরানের পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

