চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার কর্ণফুলী টানেল মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তার পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়েছে। এ সময় দোকানের সামনে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা অন্তত ছয়টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দুই নারী নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারসংলগ্ন টানেল মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বারখাইন ইউনিয়নের ঝিওরি এলাকার পলি দত্ত (৩৫) ও ইফা শীল (৪০)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টানেল মোড়ে কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা ছেড়ে পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। বাসের ধাক্কায় দোকানের সামনে থাকা অটোরিকশা ও রিকশাগুলো দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে দোকানের ভেতরে ও বাইরে থাকা বহু মানুষ আহত হন।
আহত কহিনুর আক্তার জানান, তিনি দোকানে বসে নাশতা করছিলেন। হঠাৎ বাসটি দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়ে। বাসের ধাক্কায় কয়েকটি সিএনজিও দোকানের মধ্যে ঢুকে যায়। এতে তিনি মাথা ও পেটে আঘাত পান।
আরেক আহত দিদারুল আলম বলেন, কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পেছন থেকে বাসটি এসে সজোরে ধাক্কা দেয়। মুহূর্তেই চারদিকে চিৎকার আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। গুরুতর আহতদের কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনিন্দিতা জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

