ইসলামে পরিচ্ছন্নতাকে ইমানের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি মুখের পবিত্রতার প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হলো মেসওয়াক।
ইসলামি গবেষকদের মতে, মেসওয়াক কেবল দাঁত পরিষ্কারের একটি প্রাচীন পদ্ধতি নয়; বরং এটি এমন একটি আমল, যা মুখকে পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম।
উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মেসওয়াক মুখকে পবিত্র করে এবং মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম।” (সহিহ বুখারি: ৮৮৭, সুনানে নাসাঈ: ৫)
হাদিসে আরও এসেছে, উম্মতের জন্য কষ্টকর না হলে মহানবী (সা.) প্রত্যেক অজু বা প্রত্যেক নামাজের আগে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতেন। এ থেকেই মেসওয়াকের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।
ইসলামি সূত্রে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) জীবনের শেষ মুহূর্তেও মেসওয়াক করেছেন। মৃত্যুশয্যায় তিনি মেসওয়াকের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করলে হজরত আয়েশা (রা.) সেটি নরম করে তাঁর হাতে তুলে দেন। এরপর তিনি মেসওয়াক করেন। এ ঘটনা সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।
হাদিসের আলোকে বিভিন্ন সময়ে মেসওয়াক করা সুন্নত। এর মধ্যে রয়েছে—অজুর আগে, প্রত্যেক নামাজের আগে, ঘরে প্রবেশের সময়, জুমার দিন, ঘুম থেকে জাগার পর, কুরআন তিলাওয়াতের আগে, রোজা অবস্থায় এবং মুখে দুর্গন্ধ বা দাঁত অপরিষ্কার হলে।
আলেমরা বলেন, আধুনিক টুথব্রাশ ব্যবহার করলেও মেসওয়াকের সুন্নত পালন করা সম্ভব। কারণ এর মূল উদ্দেশ্য শুধু দাঁত পরিষ্কার করা নয়; বরং মহানবী (সা.)-এর সুন্নতের অনুসরণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা।
তাদের মতে, মুসলমানদের উচিত মেসওয়াককে দৈনন্দিন জীবনের একটি নিয়মিত আমল হিসেবে গ্রহণ করা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যেও এ সুন্নতের গুরুত্ব তুলে ধরা।

