বিএনপি যতদিন টিকে থাকবে, ততদিন দলটি দেশের জনগণের জন্য কাজ করে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে ব্রহ্মপুত্র নদে পোনা অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি আপনাদের সঙ্গে ছিল, বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছে, বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে থাকবে। বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের জন্যই কাজ করবে, যতদিন বিএনপি টিকে থাকবে ইনশাআল্লাহ। দেশ ও জনগণের স্বার্থের বাইরে কোনো কাজ করবে না।”
তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনেই সরকার গঠিত হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যারা বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছেন, তাদের সেই আস্থা ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
রাজপথে বিশৃঙ্খলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু ব্যক্তি রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। অন্যদিকে এর সুযোগ নেয় বিশৃঙ্খলাকারীরা।
তিনি বলেন, “দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে, যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে এবং জনগণের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে, তাদের জনগণ সব শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ এখন শান্তি, আইনের শাসন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা চায়। এসব প্রত্যাশা পূরণ করতে সরকারকে ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আগামীতে একটি ওয়েলফেয়ার স্টেট বা কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন করা।” এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষ উপকৃত হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ যে সমর্থন দিয়েছে, সেই সমর্থনের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
পাকুন্দিয়ার কর্মসূচিতে সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানসহ বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদীর কার্ড হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান। সেখান থেকে আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও জাতীয় মৎস্যপদক বিতরণ করার কথা রয়েছে।
এদিন প্রধানমন্ত্রীর আরও কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শোলাকিয়া মাঠে বৃক্ষরোপণ এবং কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান।

