বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনলাইনে ব্যক্তির সম্মানহানি রোধে বিদ্যমান সাইবার সুরক্ষা আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘ইউএস কনস্টিটিউশন ডে’ উদযাপন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার যেমন রক্ষা করতে হবে, তেমনি অনলাইনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারও সম্মান যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সেটিও নতুন আইনে নিশ্চিত করা হবে।
তিনি জানান, সাইবার সুরক্ষা আইনটি বর্তমানে খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। আইনটি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এরই মধ্যে গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে।
জনগণের প্রত্যাশার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে একটি যুগোপযোগী ও জনবান্ধব আইন প্রণয়ন করা হবে জানিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সাধারণ মানুষ যে ধরনের আইনি সুরক্ষা ও স্বাধীনতা চায়, সরকার সে ধরনের আইনই প্রণয়ন করবে।
অনলাইনে অপসাংবাদিকতা ও গুজব ছড়ানোর বিষয়েও সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাংবাদিকতার নামে কেউ যেন অনলাইনে অপতথ্য বা গুজব ছড়াতে না পারে, সংশোধিত সাইবার সুরক্ষা আইনে বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেনামি পেজ বা নামসর্বস্ব সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে ভুয়া ‘ফটোকার্ড’ ছড়িয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এর আগে অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে দেশের মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাংবিধানিক শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া বিশ্বের যেকোনো ট্রাইব্যুনালের তুলনায় এগিয়ে আছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সরকারের উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করা নয়; বরং মানবতাবিরোধী অপরাধের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা।

