শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

“যমুনার পথে এবার শিক্ষকরা”—বিক্ষোভে নতুন অধ্যায়

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলন আরও তীব্র আকার নিচ্ছে। দাবি আদায়ে আজকের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন না পেলে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ‘মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তারা। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার সারাদেশের সব স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

বুধবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে আয়োজিত এক সমাবেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী এই কর্মসূচি ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, “আমরা সরকারের বিরুদ্ধে নয়, যৌক্তিক দাবির পক্ষে আন্দোলন করছি। প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতে যাব না—তবে দাবির বিষয়ে একচুলও পিছু হটব না। আমাদের রক্ত, ঘাম, শ্রম—সব কিছু এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত।”

দুপুর ২টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে আসেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা। ২০ শতাংশ বাড়িভাতা, মেডিকেল ভাতা ও কর্মচারীদের উৎসব ভাতা বৃদ্ধিসহ তিন দফা দাবিতে তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় চারপাশে তৈরি হয় তীব্র যানজট।

শিক্ষকদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শাহবাগ এলাকা—“দাবি মানতে হবে”, “ন্যায্য প্রাপ্য চাই”—এমন স্লোগান চলতে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

আন্দোলনকারীদের একাধিক নেতা জানান, প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। তারা বলেন, “আমরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকব, কিন্তু পাঠদান করব না। ক্লাসে ঢোকা মানে আমাদের আন্দোলনের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।”

দেশজুড়ে হাজারো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন একই দৃশ্য—শিক্ষকরা স্কুলে বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন, কেউ হাতে ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, কেউ আবার ফেসবুকে ঢাকায় অবস্থানরত সহকর্মীদের সঙ্গে সংহতি জানাচ্ছেন।

শিক্ষকরা বলছেন, সরকারের প্রস্তাবিত বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার হার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাতা, ১,৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে সোমবার থেকে সারাদেশে পাঠদান বন্ধ রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

গত রোববার প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচির সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে নেতাদের আহ্বানে শিক্ষকরা সরে গিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নেন।

রাতভর তারা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করেন—কেউ প্লাস্টিকের চট বিছিয়ে, কেউ ব্যানার মাথার নিচে রেখে রাত কাটান।

“আমরা পিছু হটব না,” শাহবাগে দাঁড়িয়ে বলছিলেন এক শিক্ষক—“যতদিন প্রজ্ঞাপন না হবে, ততদিন এই লড়াই চলবে। এটি শুধু টাকার দাবি নয়, এটি সম্মানের দাবি।”

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও