রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভোরে না ফেরার দেশে খালেদা জিয়া — শোকাহত রাজনৈতিক অঙ্গন

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

- Advertisement -

বিএনপি মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়, ফজরের নামাজের ঠিক পরেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। দলটির পক্ষ থেকে তার রূহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়।

গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া। তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং তার শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত জটিল। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি সংকটময় সময় পার করছেন।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু বিএনপির নয়, সমগ্র জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক এবং আপসহীন নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার এবং মা তৈয়বা মজুমদার। শৈশবে তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালে তিনি ফার্স্ট লেডি হিসেবে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর দেশের রাজনৈতিক সংকটময় সময়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। দীর্ঘ এই আন্দোলনের সময় তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও গৃহবন্দী করা হয়। অবশেষে স্বৈরশাসনের পতনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বেই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শিক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনেন এবং সামাজিক উন্নয়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। আন্তর্জাতিক পরিসরেও তিনি স্বীকৃতি লাভ করেন। ২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় স্থান দেয়। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে তিনি এমন একজন নেতা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন, যিনি কখনো নির্বাচনে পরাজিত হননি।

২০১৮ সালে একটি বিতর্কিত মামলায় তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা দেশ-বিদেশে সমালোচিত হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি একে একে সব মামলায় খালাস পান।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও