শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

প্রকৃতির পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ হরেকরকম খেজুর, কোনটি আপনার উপযোগী?

সারাদিন রোজ রাখার পর ইফতারের মুহূর্তে খেজুরের একটি ছোট টুকরা মুখে দিলেই যেন শরীরে নতুন করে প্রাণ ফিরে আসে।

- Advertisement -

রোজা রেখেও সুস্থ থাকুন ডায়াবেটিসের রোগীরা

রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত স্বাভাবিক হয়, ক্লান্তি কমে এবং শরীরের খরা মিটে যায়।

তবে বাজারে এখন এত রকমের খেজুর যে কোনটি কিনবেন— এই প্রশ্ন অনেকের মনে ঘুরপাক খায়।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “খেজুর শুধু মিষ্টি ফল নয়, এটি প্রকৃতির দেওয়া একটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাদ্য। রোজার সময় এর ভূমিকা অপরিসীম।”

“তাই রমজানের বাজারে কোন খেজুরের কী বিশেষ গুণ এবং কোনটি আপনার শরীরের জন্য সবচেয়ে উপযোগী, তা জানা থাকা ভালো”- মন্তব্য করেন তিনি।

খুরমা

সবচেয়ে পরিচিত ও সুলভ খেজুর। এর মিষ্টি স্বাদ, নরম গঠন এবং সহজ হজমযোগ্যতা এটিকে রোজাদারদের প্রথম পছন্দ করে তোলে খুরমায় প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক শর্করা— গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ থাকে, যা রোজা ভাঙার পর শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি যোগায়। এছাড়া এতে থাকা আঁশ হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং পেটের অস্বস্তি কমায়।

শিশু, বয়স্ক এবং যাদের হজমশক্তি তুলনামূলকভাবে কম— তাদের জন্য খুরমা বিশেষভাবে উপকারী। এটি দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা খুব দ্রুত স্বাভাবিক করে তোলে।

মেডজুল

খেজুরের রাজা বলা হয়। এর বড় আকার, গাঢ় রং, রসালো গঠন এবং অত্যন্ত মিষ্টি স্বাদ এটিকে অনন্য করে তোলে।

এতে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, লৌহ, পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকে।

রোজার সময় যখন শরীরে ক্লান্তি ও রক্তস্বল্পতার অনুভূতি হয়, তখন মেডজুল সেই অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণে সাহায্য করে।

এর প্রাকৃতিক শর্করা ও খনিজের সমন্বয় শরীরকে দীর্ঘ সময় শক্তি সরবরাহ করে রাখে। পুষ্টিবিদরা প্রায়শই রোজা ভাঙার জন্য মেডজুল প্রথম পছন্দ হিসেবে সুপারিশ করেন।

সাফাওয়ি

এই খেজুর তুলনামূলক ছোট আকারের হলেও এর মসৃণ গঠন এবং তীব্র মিষ্টতা এটিকে আলাদা করে।

এটি দ্রুত হজম হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা খুব বেশি বাড়িয়ে না দিয়ে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। যাদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আছে বা শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য সাফাওয়ি একটি ভালো বিকল্প। এর ছোট আকারের কারণে একসঙ্গে বেশি খাওয়ার প্রবণতা কম থাকে, যা রোজার সময় অতিরিক্ত খাওয়া এড়াতে সহায়ক।

আম্বাবি বা হানি ডেট

এই খেজুরের আকার ছোট হলেও রস ও স্বাদ মধুর মতো মিষ্টি।

এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খনিজ এবং ভিটামিনের ভারসাম্য খুব ভালো। রোজার দীর্ঘ সময় পর শরীর যখন ক্লান্ত ও শুকিয়ে যায়, তখন আম্বাবি শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করতে বিশেষভাবে কার্যকর।

“রোজা ভাঙার জন্য পুষ্টিবিদরা সাধারণত মেডজুল বা সাফাওয়িকে প্রাধান্য দেন” বলেন ডা. নয়ন।

এগুলো দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে এবং শরীরকে দীর্ঘ সময় সতেজ রাখে। তবে খেজুরের সঙ্গে কয়েকটি বাদাম—কাজু, আখরোট বা চিনাবাদাম যোগ করলে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বা চর্বির যোগান হয়, যা রোজার সময় শক্তি ধরে রাখতে আরও সহায়ক।

রমজানের বাজার করার সময় খেজুর বাছাইয়ে সতর্কতা অবলম্বন করুন। ভালো মানের খেজুর বেছে নিতে এর রং, গঠন, সতেজতা ও ঘ্রাণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

খেজুর শুধু ইফতারের অংশ নয়— এটি রোজার পুরো দিনের শক্তির উৎস। সঠিক খেজুর বেছে নিলে রোজা শুধু সংযমের মাস নয়, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির মাসও হয়ে ওঠে। খবর: বিডিনিউজ২৪

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও