চট্টগ্রাম নগরীতে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন–এ যুক্ত হয়েছে ৬টি নতুন হাতচালিত স্প্রে মেশিন। প্রিমো হেলথ কেয়ারের দেওয়া এসব শক্তিশালী ইঞ্জিনচালিত পেশাদার মানের স্প্রে যন্ত্রের মাধ্যমে দ্রুত ও কার্যকরভাবে লার্ভানাশক ওষুধ ছিটানো সম্ভব হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) টাইগারপাসে চসিক কার্যালয়ে জীবাণুনাশক ও লার্ভানাশক ওষুধ ছিটানোর জন্য এসব মেশিন হস্তান্তর করা হয়।
নতুন মেশিনগুলোতে বড় ধারণক্ষমতার ট্যাঙ্ক ও শক্তিশালী স্প্রে ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ১২ মিটার দূর পর্যন্ত ওষুধ ছিটানো যায়। কম্পন-নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ও আরামদায়ক কাঁধের বেল্ট থাকায় দীর্ঘসময় কাজ করলেও ব্যবহারকারীদের জন্য এটি সুবিধাজনক।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, নগরে মশার উপদ্রব কমাতে আগামী সপ্তাহ থেকে ৪১টি ওয়ার্ডজুড়ে বিশেষ সমন্বিত অভিযান চালানো হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে চসিক এখন লার্ভানাশক জীবাণু—Bacillus thuringiensis israelensis (বিটিআই) ব্যবহার করছে। এটি মশার লার্ভা ধ্বংসে অত্যন্ত কার্যকর এবং পরিবেশবান্ধব। পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ইতিবাচক ফলও পাওয়া গেছে।
এই কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত ধোঁয়া স্প্রে (ফগিং) কার্যক্রমের পাশাপাশি লার্ভানাশক ছিটানো, নালা-নর্দমা পরিষ্কার, আবর্জনা অপসারণ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হবে। নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে সমন্বিতভাবে কাজ করে মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।
মেয়র বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়—নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। বাসাবাড়ি, ছাদ, ফুলের টব বা পানির পাত্রে যাতে পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গুসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কার্যকর ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে চট্টগ্রামে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে। নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য রক্ষায় চসিকের এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলবে বলে জানানো হয়েছে।

