বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের বিষয়টি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয় এবং আগামী মাসে দাম বাড়ানো হবে কি না—সে বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
তবে এই পরিস্থিতিতেও সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে দেশের সরবরাহ স্বাভাবিক রেখেছে বলে জানান তিনি।
বর্তমানে দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন ডিজেল মজুদ রয়েছে এবং ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার টন আসবে। এছাড়া ১০ হাজার ৫০০ টন অকটেন মজুদ রয়েছে, যার সঙ্গে এপ্রিলেই আরও ৭১ হাজার ৪৩৩ টন যুক্ত হবে।
পেট্রোলের মজুদ রয়েছে ১৬ হাজার টন এবং আরও ৩৬ হাজার টন আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, পাকিস্তান ইতোমধ্যে তেলের দাম ৫০ শতাংশ বাড়িয়েছে, শ্রীলঙ্কা রেশনিং চালু করেছে। ভারত, আফগানিস্তান ও নেপাল-সহ অন্যান্য দেশও দাম বাড়িয়েছে। সে তুলনায় বাংলাদেশ এখনো জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রেখেছে।
মন্ত্রী জানান, এপ্রিল মাসে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও কৃষি কার্যক্রম বিবেচনায় তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কৃষকদের ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সেচ কার্ডের আদলে কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ৩৪২টি অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৩১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে তদারকির জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগ এবং জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে নিয়মিত ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জ্বালানিমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবৈধ মজুদ বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

