স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কর্ণফুলী থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম ফোরকানের বক্তব্যকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। স্বাধীনতার ঘোষণার প্রসঙ্গে দেওয়া তার মন্তব্য অনুষ্ঠানে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মেজর জিয়াউর রহমান প্রথমে নিজেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, পরে রাজনৈতিক নেতাদের পরামর্শে তা সংশোধন করে শেখ মুজিবুর রহমান-এর পক্ষে ঘোষণা হিসেবে উপস্থাপন করেন।
বক্তব্য চলাকালে ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, মঞ্চে উপস্থিত প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম তার বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে সংক্ষিপ্ত করার অনুরোধ জানান, যা মুহূর্তেই অনুষ্ঠানে উত্তেজনা তৈরি করে।
অ্যাডভোকেট ফোরকান তার বক্তব্যে আরও বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক ও মুক্তিযুদ্ধের সাহসী রণাঙ্গনের বীর সেনানায়ক। তার আদর্শ অনুসরণ করতে পারাকে তিনি সৌভাগ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অতীতে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে জাতীয় গণমাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে যথাযথভাবে স্মরণ করা হতো না, এমনকি তার ছবি প্রকাশেও অবহেলা দেখা গেছে—যা তাদের জন্য বেদনার ছিল।
এদিকে, একই দিনে কর্ণফুলী উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে, পুরস্কার বিতরণ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনাসহ নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্র, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল আমিন হোসেন, কর্ণফুলী থানার ওসি মো. শাহীনূর আলম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এস এম মামুন মিয়া, সাবেক সদস্য সচিব হাজী মো. ওসমানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরা।
এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

