শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

‘ইতিহাস নিয়ে গবেষণা হোক, কিন্তু বিকৃতি নয়’—প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা চলবে। তবে সেই গবেষণা বা মন্তব্য এমন হওয়া উচিত নয়, যা দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অবমূল্যায়ন করে।

- Advertisement -

শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন-এ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, আর অতীত ভুলে গেলে দুই চোখই অন্ধ।” তিনি জানান, অতীতকে ভুলে যাওয়া যাবে না, আবার অতীত নিয়ে এমনভাবে পড়ে থাকাও ঠিক নয়, যা ভবিষ্যতের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সকল জাতীয় নেতাকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধা, আহত ও পঙ্গু যোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সাহসী জনগণের অবদানও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। তাদের আত্মত্যাগেই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বিশেষভাবে জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে বলেন, একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি স্বাধীনতার স্বপ্ন লালন করতেন। তার দীর্ঘ মানসিক প্রস্তুতি এবং ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক নিবন্ধ তার প্রমাণ। ওই নিবন্ধে তিনি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতের স্বাধীনতা ঘোষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন, যা মুক্তিযুদ্ধ গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক দলের অর্জন নয়; এটি ছিল একটি ‘জনযুদ্ধ’। লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। তিনি বলেন, আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খননসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, যা জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হোক—“সমাজের একটি অংশ নয়, আমরা সবাই মিলে ভালো থাকবো।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামসহ বিশিষ্টজনরা।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও