আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের পাঁচ জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ই-হেলথ কার্ড’ সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদানের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার বাসিন্দারা প্রথম পর্যায়ে এ সেবা পাবেন।
তিনি জানান, ই-হেলথ কার্ডকে ইলেকট্রনিক রেফারেল সিস্টেম এবং ইলেকট্রনিক পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ ও রোগী ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রমও তুলে ধরেন। তিনি জানান, নারী প্রধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ৬০ হাজার ৪৪টি পরিবারকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ডের প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় ২০ হাজার ৭৪৮ জন কৃষককে কার্ড প্রদান করা হয়েছে।
এ ছাড়া শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মরত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান, খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত প্রশ্নের জবাবের পাশাপাশি বিভিন্ন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নেরও উত্তর দেন।

