শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে সব ফ্রন্টে কূটনৈতিক লড়াই চলছে: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নিহিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে।

- Advertisement -

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ ও আলোচনা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মূলধারার কূটনীতির পাশাপাশি আস্থা তৈরির (কনফিডেন্স বিল্ডিং) বিভিন্ন উদ্যোগও গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রত্যাবাসনের ভিত্তি হিসেবে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই (ভ্যারিফিকেশন) কার্যক্রম নিয়মিত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বাধীন সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ, দ্রুত ও টেকসই সমাধানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক—সব পর্যায়েই জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সফল কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সে সময়ের রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান সম্ভব হয়েছিল। বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের পথ অনুসন্ধান করছে।

রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে সরকার জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউএনএইচসিআর, ইউএন উইমেন ও ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে এবং মানবিক সহায়তা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছে।

সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর ফলে রোহিঙ্গাদের জন্য তুরস্কের মানবিক সহায়তা আরও বাড়বে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বজনমতকে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ বিবেচনায় নিয়ে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতি বাংলাদেশের নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও