শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডাকসু সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধুর ছবি নেই, জিন্নাহর ছবি নিয়ে বিতর্ক

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:

সংস্কারের পর নতুন রূপে চালু হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাসংগ্রাম সংশ্লিষ্ট কোনো ছবি না থাকায় সমালোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে।

- Advertisement -

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডাকসু ভবনের নিচতলায় সংস্কার করা সংগ্রহশালাটির উদ্বোধন করেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণ-আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। এ সময় ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংগ্রহশালা ঘুরে দেখা যায়, ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার স্থিরচিত্র সেখানে স্থান পেয়েছে। ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, এম এ জি ওসমানী, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ছবি রয়েছে।

তবে ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, আগরতলা মামলা, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন ও ৭ মার্চের ভাষণ—এসব ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো ছবি সেখানে রাখা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ১৯৭৪ সালের কিছু সংবাদপত্রের কাটিং ও দুই ছেলের বিয়ের ছবি রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৪৮ সালে রেসকোর্স ময়দানে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেওয়ার ছবিও রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর ছবি না রাখা প্রসঙ্গে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ‘ফ্যাসিবাদের সব আইকনের’ ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সালের অংশে শেখ মুজিবের ছবি রাখার ইচ্ছা হয়নি বলেও জানান তিনি। জিন্নাহর ছবি তিনি নিজে রাখেননি বলেও দাবি করেন।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডাকসুর এক কর্মচারীর দাবি, ২০২৫ সালের নির্বাচনে ছাত্রশিবির জয়ী হওয়ার পর সংগ্রহশালা থেকে বঙ্গবন্ধুর আগের সব ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

ডাকসু নির্বাচনে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল থেকে নির্বাচন করা নূমান আহমাদ চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় বাদ দিয়ে তাঁর বিতর্কিত দিকগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে স্বাধীনতার সংগ্রামকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।

ডাকসুর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক গোপাল চন্দ্র দাসও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, ১৯৯১ সাল থেকে ডাকসুতে কাজ করার সময় সেখানে জিন্নাহর কোনো ছবি দেখেননি। বর্তমান সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি যুক্ত করাকে তিনি সমালোচনা করেন।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও