যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় পতন দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ইইউভুক্ত ২৭ দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশের প্রধান দুই প্রতিযোগী চীন ও ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান অফিস (ইউরোস্ট্যাট) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ইইউর বাজারে বাংলাদেশ ১ হাজার ৩৭ কোটি ২৮ লাখ ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণের তুলনায় এ বছর তা ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ কম।
অন্যদিকে একই সময়ে ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং চীনের ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। শীর্ষ ১০ রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়ার রপ্তানিও কমেছে। তবে পতনের হার সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশের।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ইইউর ক্রেতারা বিশ্ববাজার থেকে মোট ৫ হাজার ১৬১ কোটি ৩৭ লাখ ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। এ পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ১০ শতাংশ কম। অর্থাৎ ইউরোপের বাজারে সামগ্রিক পোশাক আমদানি কমলেও চীন ও ভিয়েতনাম থেকে আমদানি বেড়েছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল। ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরা বিশ্ববাজার থেকে যে হারে পোশাক আমদানি কমিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমেছে তার দ্বিগুণেরও বেশি।
দামের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অবস্থান চীনের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। আলোচ্য সময়ে চীন ইউরোপের বাজারে প্রতি কেজি তৈরি পোশাক গড়ে ২০ দশমিক ২০ ইউরো দরে রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশের গড় রপ্তানি মূল্য ছিল প্রতি কেজি ১৩ দশমিক ৮০ ইউরো, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ কম।
ইউরোপের পাশাপাশি বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও। মার্কিন দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ৪৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ রপ্তানি ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ কম। তবে এ পতনের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দ্বিতীয় শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।
ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা। বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটও রপ্তানি কমার পেছনে ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, ইউরোপে ভোক্তা পর্যায়ে পোশাকের চাহিদা কমার পাশাপাশি চীনের ‘আগ্রাসী বিপণন’ এবং ভারতের সঙ্গে ইইউর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) কারণেও বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা কমছে।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ইউরোপের বাজারে সামগ্রিক আমদানি কমলেও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর রপ্তানি বাড়াটা বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তবে বছরের প্রথম পাঁচ মাসের তুলনায় জুন ও জুলাইয়ে রপ্তানি কমার হার কিছুটা কমেছে। ফলে বছরের বাকি সময়ে পরিস্থিতির উন্নতির আশা করছেন উদ্যোক্তারা।

