ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহার শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সে সময় বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১০০৬টি ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পাঁচ দিনের মাথায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হলো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে উদ্ধৃত করে মন্ত্রণালয়ের বার্তায় বলা হয়, বিগত ১৭ বছরে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো পর্যালোচনা করে ১০০৬টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, জুলাই অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর সাবেক সরকারের আমলে দায়ের হওয়া ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে।
এসব মামলার বেশির ভাগই হয়েছে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ‘হয়রানিমূলক’ মামলা থেকে অব্যাহতি পাবেন।
২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে দায়ের হওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর দুটি কমিটি গঠন করে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা কমিটি এবং আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল-এর নেতৃত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করেন এবং একই দিন সরকার গঠন করে দলটি।

