শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

যাকাত ব্যবস্থাপনা জোরদার হলে দারিদ্র্য কমবে: তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সঠিক ও পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনায় যাকাত বণ্টন করা গেলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে দারিদ্র্য কমানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

- Advertisement -

শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর যমুনায় দেশের আলেম-ওলামা, মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে পবিত্র মাহে রমজানের ১৭তম দিনে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ধনী-দরিদ্র মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের মধ্যে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে যদি প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে পাঁচ লাখ পরিবারকে এক লাখ টাকা করে যাকাত দেওয়া যায়, তাহলে অনেক পরিবার পরের বছর আর যাকাতের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না।

আলেম-ওলামাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের বিষয়টি যদি যৌক্তিক মনে হয়, তাহলে সমাজের বিত্তবানদের সচেতন করতে আলেম-ওলামা ও মাশায়েখরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, যাকাত ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, ইসলামিক স্কলার এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যমান যাকাত বোর্ড পুনর্গঠন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, যাকাতকে দারিদ্র্য বিমোচনের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারলে ইসলামী বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর যাকাতের পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে সুসংগঠিত পরিকল্পনার অভাবে এই অর্থ দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, পবিত্র রমজান ত্যাগ, সংযম ও রহমতের মাস। কিন্তু দুঃখজনকভাবে রমজান এলেই কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। যারা এ ধরনের অসাধু কাজ করেন, তাদের প্রতি মানুষের কষ্টের কারণ না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান আরও বলেন, সাধারণত রমজানের প্রথম দিনেই আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়। তবে দেশের চলমান পরিস্থিতির কারণে এবার কিছুটা দেরিতে এ আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে এ বছর মাত্র দুটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এটিই সম্ভবত এবারের রোজায় শেষ ইফতার মাহফিল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও