বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

৫৩ বছর পর আবার চাঁদের পথে মানুষ, নাসার আর্টেমিস–২ মিশন শুরু

দীর্ঘ ৫৩ বছর পর আবারও মানুষকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠাতে যাচ্ছে নাসা। সর্বশেষ ১৯৭২ সালে (অ্যাপোলো ১৭) মিশনের মাধ্যমে চাঁদে নভোচারী পাঠানো হয়েছিল।

- Advertisement -

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, (আর্টেমিস–২) অভিযানের আওতায় বুধবার (১ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের (ফ্লোরিডা) থেকে চার নভোচারী মহাকাশযাত্রা শুরু করবেন। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ভোর ৪টা ২৪ মিনিটে উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে।

এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, (ক্রিস্টিনা কচ) এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। তিন পুরুষ ও এক নারী নভোচারীর এই দল মহাকাশ অভিযানে নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে।

প্রায় ১০ দিনের এই মিশনে মহাকাশযানটি চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবে। তবে এবার চাঁদে অবতরণ করা হবে না। ১৯৬৮ সালের (অ্যাপোলো ৮)-এর মতোই কক্ষপথ ঘোরাই হবে মূল লক্ষ্য।

এই মিশনে ব্যবহার করা হবে নাসার শক্তিশালী রকেট (স্পেস লঞ্চ সিস্টেম)। ভবিষ্যতের একাধিক চন্দ্রাভিযানের জন্যই এটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী অবতরণ এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের পথ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণই (আর্টেমিস কর্মসূচি)-এর লক্ষ্য।

নভোচারী ক্রিস্টিনা কচ জানান, চাঁদে অভিযানের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে অভিযান পরিচালনায় সহায়ক হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেখানে অতীতে প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণও পাওয়া যেতে পারে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রথম কোনো চন্দ্রাভিযানে একজন নারী, একজন কৃষ্ণাঙ্গ এবং একজন অ-মার্কিন নভোচারী একসঙ্গে অংশ নিচ্ছেন—যা মহাকাশ ইতিহাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

কারিগরি জটিলতার কারণে কয়েকবার পিছিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে অভিযানটি শুরু হতে যাচ্ছে। নাসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহাকাশযান, ক্রু ও আবহাওয়া—সবকিছুই এখন অনুকূলে রয়েছে।

এদিকে দ্রুত এই অভিযান বাস্তবায়নে চাপ দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড ট্রাম্প)। তিনি চান, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আবারও চাঁদের মাটিতে মার্কিন নভোচারীদের পদচিহ্ন পড়ুক।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও