মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম দেওয়ার পর বৈশ্বিক তেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হুমকির পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৬ শতাংশ বেড়ে ১১০.৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে ১১২.৪০ ডলারে পৌঁছেছে।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মঙ্গলবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালাবে।
এর প্রেক্ষাপটে ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস পরিবহন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর বিমান হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর থেকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন তেল স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রেখেছে।
রোববার কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলার কথা স্বীকার করেছে তেহরান।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের দেশের অবকাঠামোয় হামলা চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে আরও বড় আকারে পাল্টা আঘাত হানা হবে।
অন্যদিকে তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ওপেক প্লাস মে মাসে উৎপাদন সামান্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে চলমান সংঘাতের কারণে এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন অনিশ্চিত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

