শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে তাণ্ডব—ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা, ইরানের হুঁশিয়ারি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবানন জুড়ে নতুন দফায় তুমুল বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

- Advertisement -

লেবাননের রাজধানী বৈরুত, বেকা ভ্যালি এবং দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে অন্তত ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানায়, এসব হামলা হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে।

তবে লেবাননের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অনেক হামলাই বেসামরিক ও আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে। এতে কয়েক ডজন মানুষ নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এই হামলার জেরে ইরান যুদ্ধবিরতি থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে। তেহরান বলেছে, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে তারা আর যুদ্ধবিরতি মানবে না।

উল্লেখ্য, বুধবার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যাতে সম্মতি জানায় ইরান। ইসরায়েলও এতে সমর্থন দিলেও স্পষ্ট করে জানায়, এই যুদ্ধবিরতি শুধুমাত্র ইরানে প্রযোজ্য—লেবাননে নয়।

অন্যদিকে, ইরান ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও রয়েছে। তবে সেই দাবি নাকচ করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

এদিকে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ রাখলেও ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলার পর তারা আবারও পাল্টা রকেট নিক্ষেপ শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, ‘এটারনাল ডার্কনেস’ নামের অভিযানে ৫০টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এবং ১০ মিনিটে ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে ১৬০টি বোমা নিক্ষেপ করা হয়—যা গত মাসের পর সবচেয়ে বড় সমন্বিত হামলা।

লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন জানিয়েছেন, বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় হাসপাতালগুলোতে আহত-নিহতের চাপ বেড়ে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রেড ক্রসের শতাধিক অ্যাম্বুলেন্স উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এমন হামলা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়াকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও