ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জনবল ও অবকাঠামো বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগের মাধ্যমে বাহিনীটির সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) পূর্বাচলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও চাহিদার তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। এ অবস্থায় সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিসের উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ডুবুরি ইউনিটের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ডুবুরিদের সক্ষমতা বাড়াতে ৭২টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে নৌযান দুর্ঘটনা মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের সেবা আরও কার্যকর হবে।”
তিনি জানান, ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি করার লক্ষ্যে ফায়ার সার্ভিসের অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে।
প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একাডেমি স্থাপনের কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।
ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের জন্য ‘ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ভাতা’ এবং ‘ফ্রেশ মানি’ চালুর বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
আবাসন সংকট নিরসনে ঢাকার মিরপুর ও সদরঘাট এলাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুটি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ এবং মিরপুরে সদর দপ্তর ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বাড়াতে ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কাজও চলমান।
তিনি আরও জানান, ফায়ার সার্ভিসের সেবা সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে গত ১ মে থেকে ‘ই-ফায়ার লাইসেন্স’ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৮৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতে পদক তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে ২০২৩ সালের ৩৪ জন এবং ২০২৪ সালের ৫০ জন রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল এবং নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।

