বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

ইবোলার টিকা আসতে লাগতে পারে আরও ৯ মাস: ডব্লিউএইচও

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক

প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ ইবোলার টিকা বাজারে আসতে আরও প্রায় ৯ মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির উপদেষ্টা ড. ভাসি মূর্তি বলেছেন, বর্তমানে ইবোলার বুন্ডিবুগিও প্রজাতির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য দুটি টিকা তৈরির কাজ চলছে, তবে সেগুলো এখনও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

- Advertisement -

বুধবার (২১ মে) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডব্লিউএইচও সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

ড. ভাসি মূর্তি বলেন, “টিকা সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ হতে অন্তত ৯ মাস সময় লাগতে পারে।”

বর্তমানে মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ইবোলা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলার উপসর্গে ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও প্রায় ৬০০ জনের মধ্যে উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত ৫১ জনের শরীরে ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। আক্রান্তরা সবাই পূর্বাঞ্চলের ইতুরি ও উত্তর কিভু প্রদেশের বাসিন্দা। এছাড়া প্রতিবেশী উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায়ও দুইজন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন।

পরিস্থিতির অবনতির কারণে গত ১৭ মে বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনো বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে পৌঁছেনি।

ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেন, “কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হলেও এখনও এটি বৈশ্বিক মহামারি নয়।”

ইবোলা নিয়ন্ত্রণে কঙ্গোকে সহায়তা দিতে ইতোমধ্যে ২ কোটি পাউন্ড অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। এই অর্থ স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।

কী এই ইবোলা ভাইরাস?

ইবোলা ভাইরাসের বৈজ্ঞানিক নাম ‘অর্থোইবোলাভাইরাস জাইরেন্স’। এ পর্যন্ত ভাইরাসটির ছয়টি প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে— জাইর, সুদান, বুন্ডিবুগিও, রেস্টন, তাই ফরেস্ট ও বোম্বালি।

বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ভাইরাসটি বুন্ডিবুগিও প্রজাতির বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

ইবোলা মূলত মানুষ ও প্রাইমেট প্রাণীদের আক্রান্ত করে। আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল-মূত্র কিংবা অন্যান্য শারীরিক তরলের সংস্পর্শে এলে এ ভাইরাস ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, সুঁই কিংবা মৃতদেহ থেকেও সংক্রমণ হতে পারে।

ফলখেকো বাদুড়কে ইবোলার প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে ধরা হয়। এছাড়া বনমানুষ, হরিণ ও সজারুও ভাইরাসটি বহন করতে পারে।

ইবোলার লক্ষণ

ইবোলার প্রধান উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে—হঠাৎ তীব্র জ্বর, প্রচণ্ড দুর্বলতা ও ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও গলাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, ডায়রিয়া ও বমি, শরীরে ফুসকুড়ি, লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস, নাক, মুখ ও মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণ।

সাধারণত সংক্রমণের দ্বিতীয় দিন থেকেই উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাতাসের মাধ্যমে না ছড়ালেও ইবোলার মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি। গড়ে আক্রান্তদের প্রায় ৫০ শতাংশ মারা যায়। কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত দেখা গেছে।

বর্তমানে কঙ্গোর বিভিন্ন হাসপাতালে ২৪৬ জন রোগী ভর্তি আছেন, যাদের মধ্যে ছয়জন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও