হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। রোববার দিবাগত রাতে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরান দাবি করেছে, বাহরাইনে থাকা মার্কিন বাহিনীর একটি ড্রোনবহর ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে একাধিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হামলায় একটি মার্কিন ড্রোন কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং একটি পি-৮ নজরদারি বিমানের হ্যাঙ্গারে আঘাত হানা হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের হামলার সক্ষমতা কমিয়ে দিতে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনাসহ ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, “গত রাতে আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমাবর্ষণ করেছি।”
এদিকে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর এলাকায় একটি কৃষি পানি পাম্পিং স্টেশনে হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি ওই স্থাপনার নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমানোর সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলেও দাবি করেছে তেহরান।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, তারা ইরানের প্রায় ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

