রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান গুঞ্জনের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে স্পিকার বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছে।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই থাইল্যান্ডে গেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তার ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও এর আগেই তিনি ফিরতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব মো. নূরুল আমীন বলেন, “রাষ্ট্রপতি এখনো পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেননি। পদত্যাগ করলে তা জানানো হবে।”
তবে বঙ্গভবনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র পাঠিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। স্পিকার দেশে না থাকায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। একই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি শপথ নেন। বর্তমান মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকার কথা রয়েছে।
তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

