শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লোহিত সাগরে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ, চাপে সৌদির তেল রপ্তানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পুরো অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ অগ্রগতির পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি এলাকাও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।

- Advertisement -

এর এক দিন আগে ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখলের দাবি করে হুথিরা। আল-জাজিরার প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, হুথিদের এই দ্রুত অগ্রগতি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্যও নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে বাব আল-মান্দেব প্রণালি। বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে চলাচল করে। হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর বাব আল-মান্দেবের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে সৌদি আরব পারস্য উপসাগর এড়িয়ে ‘ইস্ট-ওয়েস্ট ক্রুড অয়েল পাইপলাইন’-এর মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পৌঁছে দেয়। যুদ্ধ শুরুর পর রিয়াদ পাইপলাইনটির সক্ষমতা দিনে ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৭০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করেছে।

ফলে সৌদি তেলের বড় একটি অংশ এখন বাব আল-মান্দেব হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যাচ্ছে। এই নৌপথও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের পক্ষে দীর্ঘ সময় পুরো লোহিত সাগর অবরুদ্ধ করে রাখা কঠিন। তবে পুরো প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করাও তাদের জন্য জরুরি নয়। বাব আল-মান্দেব দিয়ে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ—এমন ধারণা তৈরি করতে পারলেই জাহাজ কোম্পানি ও বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো ওই নৌপথ এড়িয়ে চলতে পারে।

এতে সামরিকভাবে পুরো নৌপথ বন্ধ না করেও হুথিরা কার্যত জাহাজ চলাচল কমিয়ে দিতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে পরিবহন ও বিমা ব্যয় এবং পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে হুথিদের অগ্রগতি ঠেকাতে সৌদি বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় মোখাসহ তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

তবে এসব হামলা এখন পর্যন্ত হুথিদের অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও