ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর বিমানবন্দর ও উত্তরার জসীমউদ্দীন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) টানা চতুর্থ দিনের মতো সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন তাঁরা।
শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে প্রচলিত বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা।
শ্রমিকদের অবরোধের কারণে উত্তরার বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও এর সংযোগ সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দূরপাল্লার বাসযাত্রী, কর্মজীবী মানুষসহ সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থেকে অনেক যাত্রী বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
কিশোরগঞ্জ থেকে আসা দূরপাল্লার বাসের যাত্রী আব্দুল কুদ্দুস এবং বাড্ডাগামী যাত্রী শেহজাদ আহমেদ জানান, যানজট এড়াতে আগেভাগে রওনা দিয়েও এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সড়কে আটকে থাকতে হয়েছে তাঁদের। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকেই কয়েক শ পোশাকশ্রমিক বিমানবন্দর ও জসীমউদ্দীন এলাকার বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। পরে বেলা দেড়টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানান বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার।
ওই দিনই শ্রমিকেরা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হলে বৃহস্পতিবার আবারও সড়কে নামবেন। সেই পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবারও মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন তাঁরা।
শ্রমিকদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর উত্তরাঞ্চলে যান চলাচল ও জনজীবনে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে।

