শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারে চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালী, গ্রেফতার ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে চোরাই ছয়টি মোটরসাইকেল ও একটি বাইসাইকেলসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। চট্টগ্রামের মীরসরাই, জোরারগঞ্জ ও নোয়াখালীর সুধারাম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

- Advertisement -

সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ কমিশনারের দিকনির্দেশনায় কোতোয়ালী থানার ওসি মো. জাহেদুল কবিরের নেতৃত্বে এসআই (নিরস্ত্র) নাঈমুর রহমানসহ একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে কোতোয়ালী থানাধীন সিআরবি কাঠের বাংলোর সিঁড়ির গোড়ায় অভিযান চালায়।

এ সময় চক্রের সদস্য আব্দুর রহমান ওরফে সুমন ওরফে আনোয়ারকে (২৭) গ্রেফতার করে তাঁর হেফাজত থেকে একটি বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুর রহমান জানান, তিনি অন্যদের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও থানা এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে মীরসরাই, জোরারগঞ্জ ও নোয়াখালীর সুধারাম এলাকায় মজুত করে আসছিলেন।

তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ একই দিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মীরসরাইয়ের ১০ নম্বর মিঠানালা ইউনিয়নের ইছহাক ড্রাইভার হাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বিপরীত পাশে একটি ফার্নিচারের দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে মাইনুদ্দিন মুরাদকে (২৭) গ্রেফতার করে। তাঁর কাছ থেকে একটি পুরোনো হোন্ডা লিভো (১১০ সিসি) মোটরসাইকেল ও একটি ভিভো টি৪এক্স ৫জি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।

এরপর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে (অনুমান ৭টা ২০ মিনিট) মিঠানালা ইউনিয়নের রহমতাবাদে সুলতান পাঠানবাড়ির সামনে মো. পারভেজ অভির পরিত্যক্ত ঘরে অভিযান চালিয়ে একটি পুরোনো ইগনাইটর ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

সকাল পৌনে ৯টার দিকে (অনুমান ৮টা ৫০ মিনিট) জোরারগঞ্জ থানার ৬ নম্বর ইউনিয়নের ইছাখালীতে হাজী আব্দুল খালেকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শাহাদাত হোসেনকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়। তাঁর হেফাজত থেকে একটি পুরোনো হিরো স্প্লেন্ডার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

পরে প্রথম তিনজনের তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে নোয়াখালীর সুধারাম থানার ৮ নম্বর এওয়াজ বালিয়া ইউনিয়নের মালেকা সমাজে নুরুল আমিনের দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে আবু হুরায়রাকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়। তাঁর দেখানো স্থান থেকে একটি পুরোনো গ্ল্যামার ১২৫ সিসি ও একটি পুরোনো হোন্ডা ড্রিম নিও মোটরসাইকেল এবং একটি ভিভো ওয়াই১৯এস প্রো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

এরপর চারজনের দেওয়া তথ্যে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুধারাম থানার ২ নম্বর দাতপুর ইউনিয়নের হাকিমপুরে কালামিয়া ব্যাপারী বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি পুরোনো ইয়ামাহা সালুটো মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা চট্টগ্রাম মহানগরীসহ আশপাশের জেলায় সংঘবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের নিয়ে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল চুরি করে নিজেদের হেফাজতে রাখতেন। উদ্ধার করা মোটরসাইকেলগুলো চোরাই জেনেও হেফাজতে রাখার কথা তাঁরা স্বীকার করেছেন। তবে কোথা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা তথ্য গোপন করেছেন।

পরে কোতোয়ালী থানা পুলিশ আসামি ও আলামতসহ থানায় এসে এজাহার দায়ের করে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) থানার মামলা নম্বর-৪২, দণ্ডবিধির ৪১১ ধারায় মামলা রুজু হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে চুরি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে চারটি এবং শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনসহ অন্যান্য আইনে দুটি মামলা রয়েছে।

আব্দুর রহমান ওরফে সুমন ওরফে আনোয়ার (২৭), পিতা মৃত সামশু ওরফে রশিদ, পূর্ব ইছাখালী, জোরারগঞ্জ, বর্তমানে ডবলমুরিং থানা এলাকায় বসবাসরত। মাইনুদ্দিন মুরাদ (২৭), পিতা মফিজুর রহমান, রহমতাবাদ, মীরসরাই। শাহাদাত হোসেন (৩০), পিতা মো. সিদ্দিকুর রহমান, রামগড়, খাগড়াছড়ি। আবু হুরায়রা (৩০), পিতা মো. হাবিবুল্লাহ, বাটিটেক, সুধারাম, নোয়াখালী।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও