আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা দিবস। দীর্ঘ সংগ্রাম আর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালের এই দিনে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়েই শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ, যার মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
বাংলার স্বাধীনতার ইতিহাস বহু পুরোনো। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ-এর পর থেকেই এই অঞ্চলে পরাধীনতার সূচনা হয়। প্রায় দুই শতাব্দী ব্রিটিশ শাসনের পর ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হলেও পূর্ব বাংলার মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতা পায়নি। পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত এ অঞ্চলের মানুষ পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের দ্বারা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের শিকার হতে থাকে।
এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি শুরু থেকেই প্রতিবাদ গড়ে তোলে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ নানা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করতে থাকে।
পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে, যখন পাকিস্তানি বাহিনী অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনা করে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর হামলা চালায়। এই গণহত্যার প্রেক্ষাপটে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পরে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান সেই ঘোষণা পাঠ করেন।
এরপর শুরু হয় দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। পাকিস্তানি বাহিনীর পাশাপাশি তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীও গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। কিন্তু বাঙালি জাতি অদম্য সাহস ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-এর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। প্রায় ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা বাঙালি জাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
মহান স্বাধীনতা দিবস আজ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দিনটি বাঙালি জাতির গৌরব, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার চেতনাকে নতুন করে স্মরণ করার দিন।

